মক্কায় কি অমুসলিম প্রবেশ নিষেধ? কিন্তু কেন?

মক্কায় অমুসলিম প্রবেশ নিষিদ্ধ হোক না!!! তাতে অমুসলিমদের কি??!! সে মক্কায় হোক, মদিনায় হোক কিংবা সৌদি আরবেই হোক। মুসলিম ধর্মে অমুসলিমদের নাক গলানোর কি আছে!!

মক্কা মুসলিমদের কাছে পবিত্র তীর্থস্থান নামে পরিচিত। সেখানে একজন অমুসলিম গেলে, তাদের মনঃক্ষুণ্ণ হতে পারে। ফলে, মক্কায় অমুসলিম প্রবেশ নিষেধ হওয়াটা কোন অন্যায় নয়।

হ্যা নিষেধ।



কারণ অনেকে অনেক যুক্তি দেবেন, যেমন জাকির নায়েক বলেন যে ক্যান্টনমেন্টে যেমন সিভিল পার্সনরা সব জায়গায় যেতে পারেনা, যেমন ধরুন এরিয়া ৫১ তে, তেমনি মক্কা সেরকম সবাই যেতে পারেনা। প্রকৃত কারণ খুব সিম্পল। আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন। মুসলমানদের অন্যথা করার উপায় নাই।

এর পটভূমি জানতে কিছু ইতিহাস জানতে হবে। ইব্রাহীম আ তার সন্তান ইসমাইল আ কে নিয়ে কাবা প্রতিষ্ঠা করেন এক উপাস্য আল্লাহর উপাসনা করার জন্য। কিন্তু যুগের পর যুগ ধরে এটি বিকৃতির শিকার হয় এবং মহানবী মোহাম্মদ সা এর সময়ে কাবা ঘরের চত্ত্বরে ৩৬০টি মূর্তি ছিল। ভিন্ন ভিন্ন আরব গোত্র সময়ের ব্যবধানে ধীরে ধীরে ভিন্ন ভিন্ন দেব দেবীকে নিজেদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে গ্রহণ করেছিল। তাদের বিশ্বাস ছিল তাদের দেব দেবী তাদের পক্ষে কাবার যে মূল উপাস্য অর্থাৎ আল্লাহ তার কাছে মাধ্যম হিসেবে ওকালতি করবে। এই কারণে কাবা ঘরের প্রাঙ্গনে তারা মূর্তিগুলো রেখেছিল। এবং আরবের দূর দূরান্ত থেকে তারা কাবায় আসতো নিজ নিজ দেব দেবীকে ভোগ দিতে। এর ফলে মক্কা অর্থনৈতিক ভাবে ব্যাপক লাভবান হত। এটি আরবের কেন্দ্রে পরিণত হয়। মক্কার অমুসলিমদের ইসলামকে প্রতিরোধ করার অন্যতম বড় একটা কারণ ছিল এই অর্থনৈতিক সুবিধাটি হাতছাড়া হবার আশঙ্কা।

মহানবী সা মক্কা দখলের পর কুরআনে এক নির্দেশের মাধ্যমে আল্লাহ এই রীতি বন্ধ করে দেন।

সূরা আত-তাওবাহ্‌ (التوبة), আয়াত: ২৮

হে ঈমানদারগণ! মুশরিকরা তো অপবিত্র। সুতরাং এ বছরের পর তারা যেন মসজিদুল-হারামের নিকট না আসে। আর যদি তোমরা দারিদ্রের আশংকা কর, তবে আল্লাহ চাইলে নিজ করুনায় ভবিষ্যতে তোমাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

অর্থাৎ আগামীতে শুধু তাদের কাবায় হজ্জ ও যিয়ারতই বন্ধ নয় বরং মসজিদে হারামের সীমানায় তাদের প্রবেশই নিষিদ্ধ ৷

অপবিত্র, কথাটির মানে এই নয় যে, তারা নিজেরাই অপবিত্র বা নাপাক৷ বরং এর মানে হচ্ছে , তাদের আকীদা,-বিশ্বাস , নৈতিক , চরিত্র, কাজকর্ম এবং তাদের চালচলন ও সমাজ ব্যবস্থা ইসলামের দৃষ্টিতে অপবিত্র ৷ আর এ অপবিত্রতার কারণে হারাম শরীফের চতুসীমায় তাদের প্রবেশ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে৷

ইমাম আবু হানিফার মতে এর অর্থ শুধু এতটুকুই যে, হজ্জ ও উমরাহ এবং জাহেলী অনুষ্ঠানাদি পালন করার জন্য তারা হারাম শরীফের সীমানায় প্রবেশ করতে পারবে না৷

ইমাম শাফেয়ীর মতে এ হুকুমের অর্থ হচ্ছে,তারা (যে কোন অব্স্থায়ই )মসজিদে হারামে প্রবেশ করতে পারবে না৷

ইমাম মালেক বলেন, শুধু মসজিদে হারামেই নয়, দুনিয়ার অন্য কোন মসজিদেও তাদের প্রবেশ জায়েজ নয়৷

তবে এ শেষোক্ত মতটি সঠিক নয়৷ কারণ নবী (সা) নিজেই তাদের মদীনার মসজিদে আসার অনুমতি দিয়েছিলেন৷

No comments:

Post a Comment